নাশকতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেলে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে: সরকারের দৃঢ় ঘোষণা
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিকেল থেকে জ্বলতে থাকা আগুন রাত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এ ঘটনায় জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়।
শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, সাম্প্রতিক একাধিক অগ্নিকাণ্ডে যদি নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সরকার বলেছে—
“কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”
🔥
বিমানবন্দরের আগুনে আতঙ্ক
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টির বেশি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও রাত পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুপুরে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কার্গো ভিলেজে রাখা দাহ্য পদার্থ বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
🏭
দেশজুড়ে অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্বেগ
গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ইপিজেডে অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইলস লিমিটেডে ভয়াবহ আগুন লাগে, যা প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান অন্তত ১৬ জন।
এসব ঘটনার পর জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে বলছেন, “এগুলো কি কাকতালীয়, নাকি পরিকল্পিত?”
🏛️
সরকারের কঠোর বার্তা
অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়,
“দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“যদি এসব অগ্নিকাণ্ড নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে সরকার দৃঢ় হাতে ব্যবস্থা নেবে। যারা আতঙ্ক ছড়াতে চায়, তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন আমরা ভয়কে আমাদের দৃঢ়তার ওপরে প্রাধান্য দেব।”
🔍
তদন্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা
সরকার জানিয়েছে, প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান,
“এই ধারাবাহিক আগুন কেবল দুর্ঘটনা নয়—এর পেছনে পরিকল্পিত কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আমরা সমস্ত দিক থেকে তদন্ত করছি।”
👥
জনমনে আতঙ্ক, ব্যবসায়িক ক্ষতি
বারবার অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে।
ঢাকা চেম্বারের এক কর্মকর্তা বলেন,
“ইপিজেডে ও বিমানবন্দরে আগুনের প্রভাব রপ্তানি কার্যক্রমে পড়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে।”
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনার ফলে দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
💬
বিশেষজ্ঞ মতামত
নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) আলী আহমেদ বলেন,
“একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিকাণ্ড হওয়া সন্দেহজনক। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করতে হবে।”
সমাজবিজ্ঞানী ড. মেহেদী হাসান বলেন,
“জনগণের মধ্যে ভয় ছড়ানো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হতে পারে। সরকারের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জনগণের আস্থা বাড়াবে।”
🚒
ফায়ার সার্ভিসের সতর্কতা
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর দেশের সব বড় শিল্প এলাকা ও বাজারে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা হচ্ছে।
“প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব ফায়ার সেফটি পরিকল্পনা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,” বলেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।
🇧🇩
ঐক্যের আহ্বান ও আশ্বাস
বিবৃতির শেষাংশে সরকার নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়:
“বাংলাদেশ অতীতেও কঠিন সময় পার করেছে। আমরা ভয় নয়, দায়িত্ব ও সংযমের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”
সরকারের এই বার্তা জনমনে আশ্বাস জাগিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপই জনআস্থা ফিরিয়ে আনবে।
🌟
শেষ কথা
আগুনের শিখায় পোড়ানো শুধু ভবন নয়—দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতিচ্ছবিও।
তবে সরকারের দৃঢ় ঘোষণা ও জনগণের ঐক্যই হতে পারে সেই শক্তি, যা ভয় ও নাশকতার রাজনীতিকে পরাজিত করবে।
🔖
সূত্র:
অন্তর্বর্তী সরকারের সরকারি বিবৃতি, ফায়ার সার্ভিস, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।


